অহেতুক কিছু শিশুদের চাপিয়ে দেবেন না, অভিভাবকদের রাষ্ট্রপতি

President_Child-(1)বিডিনিউজ : শিশুদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অহেতুক কিছু চাপিয়ে না দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “শিশুকে শিশুর মত থাকতে দিন। শিশুর ব্যক্তিত্ব ও আগ্রহের প্রতি আস্থা রাখুন।

“শিশুদের ওপর অহেতুক বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। এতে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ বিঘ্নিত হবে।”

অভিভাবকদের উদ্দেশে আবদুল হামিদ বলেন, “শুধু পাঠ্যবইকেন্দ্রিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। শিশুরা আজ অনেক কিছুর স্বপ্ন দেখে। কেউ হবে সেরা ক্রিকেটার, কেউ হতে চায় শ্রেষ্ঠ শিল্পী কিংবা একজন বড় লেখক বা কবি-তাকে সেটা হতে দিতে।”

প্রত্যেক শিশুকে তার নিজের পথে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা দেওয়া অভিভাবকসহ বড়দের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

“তাকে (শিশুকে) ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে অন্য কিছু করাতে গেলে তার স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে। শিশুকে শিশুর মতোই থাকতে দিন। শিশুর রাজ্যে অনধিকার প্রবেশও তাদের মানসিকতার জন্য কোনো শুভ ফল বয়ে আনে না।”

শিশুদের বিকাশে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, “বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর অসম্পূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিশুদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিশুদের শিক্ষা বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা বিস্তারে সরকার বিনামূল্যে বই ও শিক্ষা ভাতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সবক্ষেত্রে সহযোগিতা করে চলেছে।

“সরকার জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ প্রণয়ন করেছে। শিশুর শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিমত্তা বিকাশে এ নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা সৌভাগ্যবান যে, জন্ম নিয়েই তোমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক।যতদূর চোখ চোখ যায়-বিস্তৃত মুক্ত আকাশ, সমুদ্র, নদী, অরণ্য এবং আমাদের যা কিছু আছে সবই তোমাদের। ইচ্ছা করলেই তোমরা তোমাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারো।”

বাংলাদেশের শিশুরা বর্তমানে পড়াশুনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গেও পরিচিত হচ্ছে বলে তাদের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

“আজ বাংলাদেশের শিশুরা পড়াশুনা করছে-চমৎকার ফলাফল করছে। সেরা ছবি আকঁছে।গান গেয়ে মন জয় করছে। বিজ্ঞানযন্ত্র আবিষ্কার করছে। খেলাধুলা-জ্ঞান প্রতিযোগিতা-সর্বস্তরে শুধু দেশেই নয়; বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। এমনকি নবীন শিশুটিও কম্পিউটার ইন্টারনেটের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলছে অবলীলায়।”
এসময় লিখিত বক্তব্যের বাইরে আবদুল হামিদ বলেন, “শিশুরা যা পারে, আমিও তা পারি না। মোবাইল অপারেটই করতে পারি না, বাচ্চারা তো এক্সপার্ট।”

শিশুর সুষ্ঠু বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিতে এসময় সবার প্রতি আহ্বানও জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি আশা করি আমরা শুধু আমাদের নিজেদের শিশুদেরই যত্ন নিব না বরং আমাদের চারপাশের যেসব শিশু আছে তারাও যাতে যত্নের সাথে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখব।”

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা-২০১৬তে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী শিশুদের মধ্যে পদক ও সনদ বিতরণ করেন।

শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, মহিলা ও শিশু সচিব নাছিমা বেগম এবং শিশু একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন বক্তব্য রাখেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like