দেশে ফিরতে চান না সালাহউদ্দিন

01_221690কক্সবাজারটাইমস ডেস্কঃ ভারতের শিলংয়ে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্ত থাকা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ এই মুহুর্তে দেশে ফিরতে চান না। উন্নত চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে তিনি সিঙ্গাপুর বা অন্য কোনো দেশে যেতে চান।কিন্তু শিলং আদালত অনুমতি না দেওয়ায় তিনি অন্য দেশে যেতে পারছে না।
সম্প্রতি বাংলাদেশের কারগারে আটক ভারতের শীর্ষ সন্ত্রাসী দাউদ মার্চেন্টকে ফিরিয়ে দেওয়া ও তার পরিবর্তে ভারতে আটক সালাহউদ্দিনকে ফেরত আনার প্রসঙ্গটি দু’দেশের সরকার পর্যায়ের আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল  ১৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিএনপি দলীয় একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানা গেছে, বাংলাদেশে ও ভারত সরকারের এই ঘোষণার পরই সালাহউদ্দিন আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য উন্নত দেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছেন।সালাহউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ একজন জানান, তার এখন চিকিৎসা দরকার। দেশে আসা না আসা নির্ভর করবে স্বাস্থ্যের উপর। গত সপ্তাহ থেকেই তার শরীর বেশ খারাপ করেছে। বাম দিকের কিডনির অবস্থা ভালো না। চিকিৎসক ও আদালতে হাজিরা দেওয়া ছাড়া তিনি ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এখনো তার একা কোথাও যাওয়ার সামর্থ নেই।ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ের শান্ত পরিবেশে অবস্থিত সানরাইজ গেস্ট হাউজে অবস্থান করছেন এই বিএনপি নেতা। সেখানে তার সঙ্গে রয়েছেন ব্যক্তিগত সহকারী, ম্যানেজার ও দুইজন তত্ত্বাবধায়ক। তার আইনজীবী এসপি  মোহান্ত ও শিলংয়ে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে এ ডুপ্লেক্সটি ভাড়া নিতে সহায়তা করেছেন।
জানা গেছে, চলমান মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার (আইও) সাক্ষী বাকি। বর্তমানে তিনি আদালতের নির্দেশে সপ্তাহে একদিন শিলং পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এবং ধার্য তারিখে অনুপ্রবেশের মামলায় আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া- দাওয়া করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং কক্সবাজার থেকে যাওয়া নিকট আত্মীয়-স্বজনরাই সালাহউদ্দিন আহমেদের দেখাশোনা করছেন। একজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হলে আরেকজন গিয়ে উঠছেন সালাহউদ্দিনের কটেজে। হাসিনা আহমেদ এখন বাংলাদেশে রয়েছেন। তার ভিসার মেয়ার শেষ হওয়ার কারণে তিনি চলে এসেছেন। ভিসা পেলে আবার যাবেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের  ১০ই মার্চ রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ২ মাস ২ দিন পর ১১ই মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকা থেকে সেখানকার স্থানীয় পুলিশ সালাহউদ্দিনকে উদ্ধার করেন। শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থা দেখে সালাহউদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  সিভিল হাসপাতাল ও নেগ্রিমস হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন।এর মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট-৪৬’ এ দায়ের করা মামলার চার্জশিট দেয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে মেঘালয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ চার্জশিট জমা দেয়া হয়। চার্জশিটে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারা অনুযায়ী বৈধ ডকুমেন্ট ছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। শিলংয়ের আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন পান তিনি। মামলার চার্জশিট হওয়ার আগে থেকেই মামলার কার্যক্রম চালানোর জন্য নামী আইনজীবী এসপি মোহান্তকে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি আইনগত দিকগুলো দেখছেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like