শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে ভাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ করব : কাদের

kader1453304230রাইজিংবিডি : ‘জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও বড় ভাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে চান জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

বড় ভাই ও দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি অঙ্গিকার করছি, বড় ভাই বিশ্বাস করে আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা আমি নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন করব। আমার জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তার প্রত্যাশা পূরণ করব। সর্বোপরি দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’

বুধবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবর্ধনার জবাবে এসব কথা বলেন জি এম কাদের।

তিনি বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি শুধু দলের চেয়ারম্যান নন, দেশের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রাজ্ঞ রাজনীতিক। তিনি এক দিনের মধ্যে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে এক দিনেই জাতীয় পার্টি জিরো থেকে হিরোতে পরিণত হয়েছে। দেশের সর্বত্র মানুষের মুখে আজ একটাই আলোচনা, তা হলো- এরশাদ ও তার দল জাতীয় পার্টি।’

জি এম কাদের আরো বলেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের মতামত নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনে আমরা কর্মসূচি নেব। আশা করি, জাতীয় পার্টি ঘুরে দাঁড়াবে, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে। আগামীতে জাতীয় পার্টিই হবে জনগণের পার্টি।’

বড় দুই দলের ওপর মানুষের আস্থা নেই, এ দাবি করে জি এম কাদের বলেন, ‘সরকারের ওপর মানুষের আস্থা নেই। একইভাবে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত বিএনপি জোটের ওপরও মানুষের আস্থা নেই। কারণ, জনগণের জন্য তারা কিছুই করতে পারেনি। মানুষের প্রত্যাশা জাতীয় পার্টিকে নিয়েই। কিন্তু দল আগের মতো শক্তিশালী নয় বলে মানুষের প্রত্যাশার জায়গায় যেতে পারেনি।’

কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের পাশাপাশি নতুন মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদারকেও দলের নেতা-কর্মীরা সংবর্ধনা দেন। এ সময় মহাসচিবের দায়িত্ব ফিরে পাওয়ায় রুহুল আমীন হাওলাদার আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা জানান। পার্টির চেয়ারম্যানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, ‘দলের জন্মলগ্ন থেকে ঘাম-শ্রম-অর্থ ও জীবন-যৌবন দিয়ে এই জাতীয় পার্টিকে এত দূরে নিয়ে এসেছি। দলের স্বার্থের জন্য অনেক পরীক্ষা দিয়েছি। কখনো আমাদের অভিভাবক পল্লীবন্ধু এরশাদকে ছেড়ে যাইনি। সামনে আরো যত পরীক্ষা দরকার দেব, তারপরও পল্লীবন্ধুর সঙ্গেই আছি।’ তিনি সুখে দুঃখে নেতা-কর্মীদের এরশাদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

রুহুল আমীন হাওলাদার আরো বলেন, ‘গত এক বছর আট মাস পার্টি অফিসে আসি নাই। কিন্তু মন-প্রাণ সবকিছুই পড়েছিল এখানে। আবারও মহাসচিবের দায়িত্ব পালনে পার্টির চেয়ারম্যান আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন। শেষ মুহূর্তে তিনি আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে আবারও জেলায়-উপজেলায় বাংলার ঘরে ঘরে পল্লীবন্ধুর পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করব।’ তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শেষ করার ঘোষণাও দেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, দক্ষিণের সেক্রেটারি জহিরুল আলম রুবেল, যুগ্ম মহাসচিব আরিফ খান, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, গোলাম মোহাম্মদ রাজু, জহিরুল ইলসাম জহির, নুর মোহাম্মদ নুরু, সুলতান মাহমুদ, সরদার শাহজাহান, দিদারুল ইসলাম দিদার, মহিলা পার্টির সেক্রেটারি অনন্যা হোসেন মোসুমী, শ্রমিক পার্টির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা পার্টির সভাপতি জাফর উল্লাহ মজুমদার, ছাত্রসমাজের সভাপতি হাসান, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান মিরু প্রমুখ।

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like