দরজায় বিশ্বকাপ: কক্সবাজারে বিদেশীদের আবাসন নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়

বাংলামেইল : অনুর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য কক্সবাজারে নির্ধারিত ভেন্যুর আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত পাঁচতারকা মানের হোটেল ওশান প্যারাডাইজে অন্যান্য সুবিধাগুলো প্রায় নিশ্চিত থাকলেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এর অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে হোটেলটির প্রতিটি কক্ষে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য স্থাপিত যন্ত্রগুলোর অধিকাংশই অকার্যকর। বিশেষ করে প্রতিটি কক্ষে স্থাপিত স্মোক ডিটেক্টর (ধোঁয়া শনাক্তকরণ যন্ত্র), স্প্রিঙ্কলার (ঝর্ণার মতো পানি ছিটানোর যন্ত্র), এবং প্রতিটি ফ্লোরে স্থাপতি হোসপাইপ রিল (পানির পাইপ) কোনোটিই কাজ করে না। কেবল গ্রাহকদের প্রদর্শনের জন্য এগুলো রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এখানকার স্মোক ডিটেক্টরগুলো বিকল। স্প্রিঙ্কলার ও হোসপাইপে পানির সংযোগ নেই। এমনকি এক্সপিঙ্গুইশারও (গ্যাসভর্তি অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডার) পর্যাপ্ত নয়। যে কোনো ছোট-বড় অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিজস্ব ন্যুনতম ব্যবস্থা ওশান প্যারাডাইজে নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় দেশি বিদেশি অতিথি ও খেলোয়াড়দের আবাসন নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে। বিদেশি খেলোয়াড়রা কক্সবাজারের অবস্থানকালে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে কক্সবাজার এমনকি পুরো বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

যদিও ওশান প্যারাডাইজের তরফ থেকে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানানো হয়েছে। ওশান প্যারাডাইজের কর্মকর্তা মজিদুল আলম বলেছেন, ‘এসব অভিযোগ আপনারা কোত্থেকে পান, জানি না। আইসিসি, বিসিবির টিম এসে সব সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা দেখে অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের খেলোয়াড়দের আবাসনের জন্য আমাদের হোটেলকে নির্বাচন করেছেন। এর আগেও আমরা ক্রিকেটের আরো বড় বড় ইভেন্ট সামাল দিয়েছি। সে সময়তো এসব অভিযোগ ওঠেনি।’

তিনি বলেন, ‘তাছাড়া, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নত। বিদেশিদের অবস্থানের জন্য তা আরো উন্নত করা হয়েছে। একইসঙ্গে আইসিসি ও বিসিবির পক্ষে সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে ব্যবস্থাপনা পর্যাবেক্ষণ করছেন।’

বিসিবির মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা রাবিদ ইমাম জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের জন্য আবাসন ঠিক করার দায়িত্ব আইসিসির। তারাই আবাসনের সুবিধা-অসুবিধাগুলো দেখেন। বিসিবি এ ব্যাপারে তেমন কিছু বলতে পারবে না। তিনি জানান, এই মুহূর্তে আইসিসির কোনো টিমও বাংলাদেশে নেই। ফলে কারো সঙ্গে আলাপ করে বিষয়টির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করার অবস্থাও নেই।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন জানান, ওশান প্যারাডাইজের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত কিনা সে ব্যাপারটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ১৯ জানুয়ারি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনের সিদ্ধান্তও রয়েছে।

বিসিবি কক্সবাজারের কর্মকর্তা মাহমুদুল করিম মাদু জানান, ওশান প্যারাডাইসকে বিসিবির পক্ষে সার্বিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে বলা আছে।

এদিকে, কক্সবাজারের বিশিষ্ট নাগরিক ও কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এ আয়োজনটি নিঃসন্দেহে কক্সবাজারের ভাবমূর্তি বাড়াবে। পর্যটন নগরী কক্সবাজারে স্পোর্টস ট্যুরিজম গড়ে তোলার পথে এটি একটি মাইলফলক। ফলে এখানে যেসব দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় আসবেন তাদের সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা সবার দায়িত্ব ‘

তিনি বলেন, ‘ওশান প্যারাডাইজের ব্যাপারে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটাকে অবহেলা না করে অবিলম্বে সে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা দরকার। আশা করি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বিসিবি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।’

জানা গেছে, অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের খেলায় কক্সবাজারে ১৭ টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কক্সবাজারের ভেন্যুতে খেলোয়াড়দের আবাসিক স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে হোটেল ওশান প্যারাডাইজে। গত আগস্ট মাসের দিকে আইসিসি ও বিসিবির একটি টিম গিয়ে ওই হোটিলটি নির্বাচন করে আসে। ওই সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ঠিকঠাক আছে বলে আইসিসি ও বিসিবিকে জানায়।

বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে।

আইসিসি আয়োজিত ১১তম অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সর্বাধিক ১৭ টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কক্সবাজার ভেন্যুতে। কক্সবাজার ভেন্যুতে প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ জানুয়ারি। ওই ম্যাচে সফরকারী স্কটল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে নামিবিয়া। ম্যাচের সূচিমতে কক্সবাজারে ২৯ জানুয়ারি একটি, ৩১ জানুয়ারি ২ টি, ২ ফেব্রুয়ারি ২টি, ৪ ফেব্রুয়ারি ২টি, ৫ ফেব্রুয়ারি ২টি, ৭ ফেব্রুয়ারি ১ টি, ৮ ফেব্রুয়ারি ২টি, ৯ ফেব্রুয়ারি ১ টি, ১০ ফেব্রুয়ারি ১ টি, ১১ ফেব্রুয়ারি ১ টি, ১২ ফেব্রুয়ারি ২ টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আর এসব ম্যাচে খেলোয়াড়দের আবাসিক ব্যবস্থার জন্য কলাতলীর ওশান প্যারাডাইসকে নির্বাচন করা হয়।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like