পাঁচ খুনে ‘পেশাদাররা নয়’: সিআইডি

N.-Gong-(2)বিডিনিউজঃ নারায়ণগঞ্জ শহরে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যায় ঘটনায় জড়িতরা ‘পেশাদার নয়’ বলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। মরদেহের সুরতহাল ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে এমনটাই দাবি করছে সিআইডি।তবে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে নিহতদের একজনের আর্থিক বিরোধসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।এদিকে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ রোববার সকালে হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেছেন।এই ঘটনায় নিহত তাসলিমার স্বামী শফিকুল ইসলাম রোববার সকালে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন বলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবদুল মালেক জানিয়েছেন।শনিবার রাতে দুই নম্বর বাবুরাইল এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাট থেকে দুই শিশুসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।নিহতরা হলেন- তাসলিমা বেগম (৪০), তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), ভাই মোরশেদুল (২৫) ও তাসলিমার জা লামিয়া (২৫)।ঘটনার পর সিআইডির একটি দল সবগুলো লাশের সুরতহাল ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।নারায়ণগঞ্জ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার এহসান উদ্দিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খুনীরা পেশাদার নয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাতের পর তাদেরকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।“তাদেরকে আগে অচেতন করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। আমাদের ফরেনসিক টিম সব আলামত সংগ্রহ করেছে। সেগুলো পরীক্ষার পর কখন, কিভাবে হত্যা করা হয়েছে- তা নিশ্চিত করে বলা যাবে।”প্রাথমিকভাবে এই হত্যায় তিনজনের বেশি লোক অংশ নিয়ে থাকতে পারে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মহিবুল ইসলাম খান।“তবে খুনিরা পেশাদার নয়। তাদের সঙ্গে পূর্ব পরিচিত ছিল। আমরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

খোঁজ মিলেছে শফিকুলের

ঘটনার পর থেকে নিহত তাসলিমার স্বামী শফিকুল ইসলামের খোঁজ না মিললেও পরে পুলিশ জানতে পারে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।রোববার ভোরে শফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়াণগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে থানার পরিদর্শক মো. শাহজালাল মিয়া জানিয়েছেন।এর আগে শফিকের ভাই, নিহত লামিয়ার স্বামী শরীফ মিয়া ও মাহফুজ নামের আরেকজনকে ঘটনার পরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। মাহফুজ সম্পর্কে শরীফ-শফিকুলের ভাগ্নে।শফিকুল ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানির গাড়িচালক। আর শরীফ ঢাকার মোতালেব প্লাজায় মোবাইল মেরামতের দোকানে কাজ করেন।শফিকুল চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। সপ্তাহে একদিন নারায়ণগঞ্জের বাসায় যান। শনিবার রাতে বাসায় হত্যাকাণ্ডের খবর ফোনে জানার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। নিহত মোরশেদের খালোতো ভাই শাহাজাদাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশের তদন্তে দুই বিষয়

নিহত মোরশেদের সঙ্গে ঢাকার একটি পক্ষের সঙ্গে সুদের টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে ঘটনার তার মা মুর্শেদা বেগম ও খালাতো বোনের স্বামী মোহাম্মদ মিলন জানিয়েছিলেন।তবে হত্যার আগে ধর্ষণের ঘটেনা ঘটেছে কিনা এবং নিহতদের খাবারে বিষ কিংবা চেতনানাশক কিছু মেশানো হয়েছিল কিনা- সেসবও আমলে নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।  তদন্তে দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার ফোরকান আহমেদ বলেন, “মোরশেদুলের সঙ্গে কারও আর্থিক লেনদেন থাকতে পারে। অন্যটি হল সেখানে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা, বা খাবারে বিষ দেওয়া হয়েছে কিনা।“কারণ ঘটনাস্থলে ধ্স্তাধস্তির কোনো আলামত নেই, প্রতিবেশীরাও কোনো চেঁচামেচি শোনেনি। সম্ভবত খাবারে চেতনানাশক কিছু মিশিয়ে সবাইকে অচেতন করে হত্যা করা হয়েছে।” চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও বিভিন্ন তথ্যের বিরাত দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সন্দেহ, মাহাফুজের সঙ্গে নিহত লামিয়ার কোনো সম্পর্ক ছিল। মাহফুজের দ্বারা উত্যক্ত হওয়ার কথা লামিয়া শরীফকে একবার জানিয়েছিল বলেও আমরা জেনেছি।”তদন্তে সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা ফোরকান আহমেদ।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like