পারিবারিক ‘কলহের’ জের ধরে ৫ খুন

বাংলামেইল : পারিবারিক কলহের জের ধরে নারায়ণগঞ্জে পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। আর এ ঘটনায় প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটকও করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

শনিবার রাতে ওই ঘটনার পর সাংবাদিকদের দেয়া অনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘শনিবার বিকেলে যেকোনো সময় ওই ঘটনা ঘটতে পারে।  এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে। আমরা ধারণা করছি পারিবারিক বিরোধ নিয়েই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আশা করছি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রহস্যের উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, ‘ঘাতকরা ঘরের কোনো কিছুতে হাত দেয়নি। ঘরের কোনো ক্ষতিও করেনি। যারা হত্যা করেছে তারা অপেশাদার খুনি বলেই আমাদের মনে হয়েছে এবং তারা পূর্ব পরিচিত ছিল। কারণ একজন প্রাপ্তবয়স্ক যুবকের উপস্থিতিতে যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা পূর্ব পরিচিত হিসেবেই কক্ষে প্রবেশ করেছিল।’

ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ঘটনাটি দিনের বেলা যেকোনো সময় ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। যারা অপরাধী তারা অপরাধ করে ঘরের বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে।’

শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের ২নং বাবুরাইল এলাকার ইসমাইল হোসেনের ফ্ল্যাট বাসায় পাঁচজনের জবাই করা লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। তবে কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই জানা যায়নি। নিহতদের মধ্যে এক জন পুরুষ, দুইজন নারী এবং দুটি শিশু রয়েছে।

তারা হলো- তাসলিমা (৩৫), তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), তাসলিমার ছোটভাই মোরশেদুল (২২) ও তার জা লামিয়া (২৫)।

শনিবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লাশগুলো ঘটনাস্থলেই ছিল। আটককৃত একজন নিহত মোরশেদুলের খালতো ভাই ও অপরজনের পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নিহতদের আত্মীয়-স্বজন। ঢাকা থেকে ছুটে আসেন নিহত তাসলিমা ও মোরশেদুলের মা মোর্শেদা। তিনি জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে নান্দাইল থানার চরবেলাবাড়ি এলাকায়। তিনি ঢাকার ধানমণ্ডি ৭ নম্বরে খালার বাড়িতে থাকেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার ছেলে মোরশেদুলের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে সারাদিন মেয়ে তাসলিাম ও ছেলে মোরশেদুলের ফোন নম্বর বন্ধ ছিল।

শনিবার রাত ৭টার দিকে নিহত তাসলিমার দেবর শরীফ মিয়া কিশোরগঞ্জের পাহাটি এলাকা থেকে বেড়াতে এসে দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে মোরশেদুলের খালাতো ভাই দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যদের ডেকে আনেন। পরে তারা বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়াদের উপস্থিতিতে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে পাঁচটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

তাসলিমার ননদ শহরের খানপুরের বাসিন্দা হাজেরা বেগম জানান, তাসলিমার স্বামী শফিক মিয়া গাড়িচালক। তিনি ঢাকায় প্রাইভেটকার চালান। সপ্তাহে একদিন বাড়িতে আসেন। ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাবুরাইল এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছয়তলা বাড়ির নিচতলায় কয়েক মাস আগে ভাড়া নেন। তার ভাই ময়মনসিংহ থেকে এসে দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে সবাইকে খবর দেন। পরে তালা ভেঙে পাঁচজনের গলাকাটা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। তবে কখন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।

বাড়ির মালিক আমেরিকা প্রবাসী ইসমাইলের চাচাতো ভাই হাজী মোহাম্মদ হোসেন জানান, গত নভেম্বর মাসে শফিক ও তার স্ত্রী তাসলিমা ২ কক্ষবিশিষ্ট ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয়। মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে রাত ৮টার দিকে নিহতের স্বজনরা ঘরটির তালা ভেঙে পাঁচজনের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ হাজী ওবায়েদুল্লাহ জানান, তিনি খবর পেয়ে ওই কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে একটি কক্ষে তিনজনের ও অপর কক্ষে দু’জনের লাশ দেখতে পেয়েছেন। তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে প্রশাসনের লোক এসে তাদেরকে ওই কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে আটকে দিয়ে তদন্ত কাজ শুরু করে।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা, পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিনসহ র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজালাল নিহতের সংখ্যা ও পরিচয় নিশ্চিত করে বাংলামেইলকে বলেন, ‘মৃতদেহ এখনো ঘটনাস্থলে আছে।’

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like