‘দাম্ভিকতা পরিহার করে আলোচনায় আসুন’

Fakhrul1452929438রাইজিংবিডি : দাম্ভিকতা পরিহার করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার অঙ্গসংগঠন যুব জাগপার ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দাম্ভিকতা করবেন না, অহংকার করবেন না। এভাবে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘বারবার বলেছি, দাম্ভিকতা-অহংকার পরিহার করে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করার পদক্ষেপ নিন। একটি নির্বাচন দিন, যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। একই সঙ্গে জনগণ তাদের পছন্দমতো একটি সরকার নির্বাচন করতে পারবে।’

ভিন্ন আঙ্গিকে বাকশাল কায়েম করার চেষ্টা হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ একদিকে জঙ্গিবাদের কথা বলা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা হচ্ছে; আরেক দিকে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করা। ’৭৫ সালে যে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, এখন ভিন্ন আঙ্গিকে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে তা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। সেই সঙ্গে দেশের মানুষকে রাষ্ট্রের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সজাগ করতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে না পারলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। তবে একদিন জনগণ জেগে উঠবে। সেই স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ ঠেকানো যাবে না। এটিই ইতিহাস।

ঢাকা সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার পুলিশের হাতে নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ দেশ নিরাপত্তাহীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়ছে। রাজনীতিবিদসহ আপামর মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। শুধু ক্ষমতাসীন ও তাদের রাষ্ট্রযন্ত্রই সব। এটিই দেশের প্রকৃত চেহারা।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন করে সরকার মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করেছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল গণতন্ত্র। কিন্তু আজ দেশ গণতন্ত্রবিহীন হয়ে পড়েছে। স্বৈরাচার একনায়কতন্ত্র চেপে বসেছে।

ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, এমন কোনো খাত নেই, যেখানে লুণ্ঠন হচ্ছে না। এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এ নিয়ে এখন আর কেউ কথা বলতে চায় না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা।

যুব জাগপার সভাপতি ফাইজুর রহমানের সভাপতিতে আরো বক্তব্য রাখেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়াসহ আরো অনেকে।

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like