ইউপি নির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় শর্ত বাদ

ECবিডিনিউজ : ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটারের কোনো সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর তালিকা লাগবে না।

নির্বাচন কমিশন সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করার পর দলভিত্তিক ইউপি ভোট করতে সংশোধিত নির্বাচন বিধিমালার খসড়া রোববার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। আর আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে তা ভেটিংয়ে পাঠানো হবে আগামী মঙ্গলবার।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নবম ও দশম সংসদ নির্বাচন এবং সর্বশেষ পৌর নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থিতার শর্ত শিথিলের এই সিদ্ধান্ত।

ভবিষ্যতে পৌর নির্বাচন বিধিমালায় ১০০ ভোটার ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)এর ১% ভোটারের সমর্থনের তালিকা দেওয়ার বিধান বাদ দেওয়ার কথাও ভাবতে শুরু করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানটি।

কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, প্রয়োজনীয় সংশোধনীর পর ইউপি নির্বাচন  বিধিমালা বৃহস্পতিবার অনুমোদন করেছে ইসি।

“এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় ভোটারদের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর তালিকা দেওয়ার বিধান রাখা হয়নি। বাস্তবতা বিবেচনা করেই এ ধরনের শর্তা বাদ দেওয়া হচ্ছে,” বলেন তিনি।

সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে আসনের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর তালিকা দিতে হয়। আর পৌরসভায় মেয়র পদে ১০০ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়েছে।

ইউপিতে এসে কোনো ধরনের শর্তারোপ না করার বিষয়ে ইসির যুক্তি তুলে ধরে সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাড়ে চার হাজার ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য কিছু ভোটারের স্বাক্ষরও যদি চাওয়া হয়, তা যাচাই করা ‘কঠিন’ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

“রাজনৈতিকভাবে ভোটের সিদ্ধান্ত হওয়ায় দলীয় প্রার্থীকে দলের প্রত্যয়ন দিতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য শর্ত দিলে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের  মাত্র দু’দিন সময় যথেষ্ট হবে না। তাছাড়া ভোটারের প্রকাশ্য সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর নেওয়ায় গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে কিনা তাও আলোচনার বিষয়।”

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে কখনো কখনো ভুয়া সমর্থন তালিকা যেমন পাওয়া যায়, তেমনি অসতর্কতার কারণে অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। পরে ইসিতে আপিল ও আদালতে গিয়ে অনেকে প্রার্থিতা ফিরেও পেয়েছেন।

ইসি সচিব বলেন,  “বিদ্যমান বাস্তবতায় দলীয় নির্বাচনে আর স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় শর্ত রাখা ঠিক না। ভবিষ্যতে সংসদ ও পৌর নির্বাচনেও তা বাদ দেওয়ার পক্ষে আমি। ইউপিতে না থাকলে বাকি নির্বাচনেও আর রাখা যায় না।”

ইতোমধ্যে আরপিও সংশোধন করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ সমর্থন তালিকা জমা দেওয়ার বিধান বাতিলের প্রস্তাবও ইসিতে এসেছে।

নির্বাচনবিধি চূড়ান্ত, আচরণবিধি আগামী সপ্তাহে

ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান পদে দলভিত্তিক ইউপি ভোট পরিচালনায় দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া, দলীয় ব্যয়, দলের ব্যয় রিটার্ন দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিল, প্রতীক বরাদ্দসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে নির্বাচন বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে ইসি তাতে সম্মতি দিলে গেজেট করা হবে। বিধিমালা হাতে পেলে ফেব্রুয়ারিতে হবে তফসিল।

তবে আচরণবিধি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করে ১৯ জানুয়ারি কমিশন সভায় তা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান সচিব।

পরিবর্তন হচ্ছে আরও ৩ প্রতীক

ইউপি নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের প্রতীক সংশোধন করার পাশাপাশি আরও তিনটি প্রতীক নিয়ে ভিন্নমত ছিল কমিশনারদের মধ্যে।

এর মধ্যে ক্যালকুলেটর প্রতীকের পরিবর্তে চশমা, কলস প্রতীকের পরিবর্তে সাঁকো ও ফুলের টব-এর বদলে টর্চলাইট নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কলস প্রতীকটি নারী প্রার্থীদের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল, তাতে আরেকবার পরিবর্তন এলো।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like