অখ্যাত ফরহাদই তারেক রহমানের আশ্চর্য চেরাগ !

Tarek1452695631রাইজিংবিডি : পৈত্রিক বাড়ি রংপুর। আর রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে ৬ তলা নিজ ভবনে পরিবারের বাস। পুরো নাম সামসুদ্দোহা ফরহাদ। বর্তমানে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেই লন্ডনে অবস্থান করছেন তিনি।

সামান্য এক কর্মচারী থেকে তারেক রহমানের ব্যবসায়ী পার্টনার। যে কিনা তারেক রহমানের অর্থ ও সম্পদের আলাদিনের আশ্চর্য্ চেরাগ। তারই ব্যাংক হিসাব থেকে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা লন্ডনে পাচার হয়। আর ওই টাকাতে আয়েশি জীবন পার করছেন তারেক রহমান।

এ ধরনের অভিযোগ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের একটি উর্ধ্বতন সূত্র রাইজিংবিডিকে এ অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। সামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান-তদন্ত-২ শাখার উপ-পরিচালক মো. হারুনুর রশিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান কাজ তদারক করবেন দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, রংপুরের বাসিন্দা হাওয়া ভবনের এক সময়ে কর্মকর্তা সমাসুদ্দোহা ফরহাদের সম্পদের উৎস জানতেই মাঠে নেমেছে দুদক। হাওয়া ভবনের স্রষ্টা তারেক রহমানের ছত্রছায়ায় কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে আইনী জটিলতা থেকে রেহাই পেতেই তারেক রহমান ফরহাদের নামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।  তিনি বলেন, অনুসন্ধানকালে যদি তারেক রহমানের নাম আসে তাহলে দুদক আইনী পদক্ষেপ নিবে। অনুসন্ধানে স্বার্থে এ মূহুর্তে এর বেশী কিছু বলা যাবে না।

দুদকে আসা অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, রংপুরের এ ব্যক্তির মূলত এক সিনিয়র নেতার মাধ্যমে হাওয়া ভবনে আগমন ঘটে। এরপর ধীরে ধীরে তারেকের আস্থা অর্জন করেন। এরপরই তার নামে সম্পদের পাহাড় গড়েন তারেক রহমান। তাই বিএনপির সামান্য কর্মী হওয়া স্বত্বেও তারেক রহমানের ছত্রছায়ায় কোটি কোটি সম্পদের মালিক হয়েছেন। যা প্রকান্তরে তারেক রহমানেরই সম্পদ। আর অর্জিত কোটি কোটি টাকা আয় রেজিস্ট্রার থেকে প্রতি মাসে যুক্তরাজ্যে (লন্ডনে) অর্থ পাচার করেন।

সামসুদ্দোহা ফরহাদের সম্পদের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, তার নামে রাজধানী ঢাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর ও ব্যাংক হিসাব রয়েছে বলে ‍দুদকে আসা অভিযোগ থেকে জানা যায়। তিনি লন্ডনে পাড়ি জমালেও মাঝে মধ্যে দেশে আসেন। মিরপুরের রূপনগরে ৬ তলা ভবনে তার পরিবার বসবাস করছেন।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত করে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন সংস্থাটি। যদিও কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে কমিশন তারেকের ঘনিষ্ট সামসুদ্দোহা ফরহাদের বিরুদ্ধে ওই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিভিন্ন মিডিয়ায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান রাইজিংবিডিকে বলেন, তারেক রহমানের অনেক দুর্নীতির অভিযোগ দুদক অনুসন্ধান করে মামলা ও চার্জশিট দিয়েছে। তাই নতুন করে তার বিষয়ে দুদকে কোন অনুসন্ধান শুরু করেনি দুদক। মিডিয়ায় যে তথ্য এসেছে তা তারাই ভাল বলতে পারবেন।

তবে অন্য একটি উর্ধ্বতন সূত্র রাইজিংবিডিকে ওই অনুসন্ধানের তথ্য নিশ্চিত করেন। অভিযোগের তথ্য উদঘাটনে শিগগিরই নথিপত্র তলব করবে দুদক।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুটি সরকার তারেক রহমান অবৈধভাবে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হন। গড়ে তোলেন রহমান নেভিগেশন, ড্যান্ডি ডাইং, রহমান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজসহ বেশকিছু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এছাড়া তিনি বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জন করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ব্যবহার করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠাননের নাম। যার একজন হলেন অখ্যাত সামসুদ্দোহা ফরহাদ।

এর আগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা অর্থ পাচার মামলায় বিচার আদালত তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেয়। তবে একই মামলার আসামি তারেক রহমানের ব্যবসায়ী বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে সাত বছর কারাদণ্ড এবং ৪০ কোটি টাকা জরিমানা করে। এ রায়ের পর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সেই সঙ্গে বিচার আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে দুদক আপিল করে। ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় তারেক রহমান ও  গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। পরে সেটি বিশেষ মামলা (নং-১৭/২০১১) হিসেবে বিশেষ আদালতে বিচার হয়।

ওই মামলায় তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর সিটি ব্যাংকের ক্যাপিটাল স্কয়ার শাখা (একাউন্ট নং-১৫৮০৫২, ম্যাক্সি সেভ একাউন্ট নং-০-১৫৮০৫২-০০৮, সিটি এক্সেস একাউন্ট নং-০-১৫৮০৫২-০১৬) ) থেকে  সাপ্লিমেন্টারি গোল ভিসা কার্ডের (নং-৪৫৬৮-৮১৭০-১০০৬-৪১২২) মাধ্যমে ৫৪ হাজার ৯৮২ দশমিক ৪২ মার্কিন ডলার ব্যয় করার অভিযোগ আনা হয়। যা টঙ্গিতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে নির্মাণ কনস্ট্রাকশন লি: এর মালিক খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে নেওয়া হয়েছে-মর্মে দুদক মামলায় উল্লেখ করে। এ অর্থ গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের মাধ্যমে তারেক রহমান সিঙ্গাপুর পাচার করেছেন মর্মে দুদকের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়। তবে শুনানি শেষে বিশেষ জজ আদালত-৩ এর তৎকালিন বিচারক মো. মোতাহার হোসেন ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেন। তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে এ মামলার বিচার কার্যক্রম চলে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like