গণতন্ত্র-উন্নয়ন বিএনপির সহ্য হয় না: প্রধানমন্ত্রী

29_sheikh+hasina_120116_0002বিডিনিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে নিতে চাইলেও তাতে বাধা দিচ্ছে বিএনপি। সরকারের দুই বছর পূর্তিতে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে একথা বলেন সরকার প্রধান।

বিএনপির ভোট বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা।

ওই নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। ‘ভোটারবিহীন’ ওই নির্বাচনে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে আসছে তারা।

শেখ হাসিনা বলেন, “২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি-জামাত জোট সারাদেশে যে ঘৃন্য ও পৈশাচিক সন্ত্রাস চালায়, তা কোনোদিন বিস্মৃত হওয়ার নয়।

“তাদের এই নৃশংসতা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হায়েনা ও তাদের দোসরদের নির্মমতার সাথেই কেবল তুলনা করা যায়।”

“সন্ত্রাস-বোমাবাজি উপেক্ষা করে সেদিন আপনারা গণতন্ত্রকে বিজয়ী করেছিলেন। কিন্তু গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিএনপি-জামাত নেতৃত্ব সহ্য করতে পারে না। মানুষ শান্তিতে থাকবে, হাসিমুখে জীবনযাপন করবে, তা ওদের সহ্য হয় না,” বলেন শেখ হাসিনা।

সরকারের এক বছর পূর্তিতে ২০১৫ সালে লাগাতার অবরোধ ডেকেছিল বিএনপি জোট। তিন মাসের ওই অবরোধে নাশকতায় শতাধিকত মানুষের মৃত্যু হয়, পোড়ানো হয় বহু গাড়ি, স্থাপনা।

উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতেই ওই কর্মসূচি ডাকা হয়েছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা এবং বিএনপি নেত্রী আদালত হাজিরায় অনুপস্থিত থাকার উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামাত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সারাদেশে তাণ্ডব ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।”

পেট্রোলবোমায় ২৩১ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৮০ জন আহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরেন সরকার প্রধান। এছাড়া ২ হাজার ৯০৩টি গাড়ি, ১৮টি ট্রেন ও ৮টি লঞ্চে আগুন দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

“জনগণকে ভোগান্তিতে রেখে, অমানবিক কষ্ট দিয়ে তাদের জীবন বিপন্ন করে বিএনপি নেত্রী নাটক করে ৬৮ জনকে নিয়ে আরাম আয়েশে ৯২ দিন অফিসে থাকেন। হত্যাযজ্ঞ ও তাণ্ডবের হুকুম দেন,” বলেন হাসিনা।

‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জনসমর্থন পায়নি বলে ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে’ আদালতে হাজিরা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ‘নাকে খত দিয়ে’ বাড়ি ফিরেছিলেন বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

এই নাশকতায় জড়িতদের ছাড় না দেওয়ার ঘোষণাও আবার দেন সরকার প্রধান।  “অগ্নি-সন্ত্রাসীদের আটক করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিচার কাজ চলছে। যারা আপনাদের আপনজনকে কেড়ে নিয়েছে, জানমালের ক্ষতিসাধন করেছে, সেই অপরাধীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে।”

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like