আন্দোলনের লক্ষ্যেই ২০ দল গঠিত হয়েছে

বাংলামেইল : আদর্শ-উদ্দেশ্য ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের অধিকার ফেরানোর লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতেই ২০ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে জোট শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির ত্রি-বার্ষিক জাতীয় কাউন্সিলে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও প্রতিহিংসামুক্ত অর্থবহ পরিবর্তনের লক্ষ্যে লেবার পার্টির এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিএনপিকে ‘গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল’ হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আদর্শ ও উদ্দেশ্যেগতভাবে ২০ দলীয় জোটের একটি দলের সঙ্গে অন্য দলের মিল নেই। বিএনপির আদর্শের সঙ্গে যেমন লেবার পার্টির মিল নেই, তেমনি লেবার পার্টির সঙ্গে আবার অন্য দলের মিল নেই। ৫ জানুয়ারির একতরফা প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হারানো গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারসমূহ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, জোট গঠন করেছি, আন্দোলন করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি, ভবিষ্যতে শত প্রলোভন ও চাপ সত্ত্বেও দেশ ও জনগণের স্বার্থে লেবার পার্টিসহ ২০ দলীয় জোট শরিকরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তাদের ভূমিকা অক্ষুন্ন রাখবে।’

আওয়ামী লীগের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আক্ষেপ করে বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন ধরে যে দলটি সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করেছে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, দীর্ঘদিনের পুরোনো সেই দলটির হাতেই গণতন্ত্র নিহত হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। এজন্য তারা গণতন্ত্রকে বিকশিত না করে অন্য একটি জোট বা দলকে ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। অথচ, ক্ষমতাসীন এই দলটির কাজ ছিল, গণতন্ত্রকে বিকশিত করা।’

গণমাধ্যমের প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মিডিয়া শুধু বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের ভুল-ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়। মানছি, আমাদেরও কিছু ভুল-ত্রুটি আছে। কাজ করতে গেলে ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। কিন্তু যারা গণতন্ত্র হত্যা করেছে, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ কেড়ে নিয়েছে, সেসব নিয়ে মিডিয়াকে সোচ্চার হতে দেখি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার ভিন্নমতকে সহ্য করতে পারে না। শুধুমাত্র ভিন্নমত পোষণ করার কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে কারাগারে রাখা হয়েছে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই দমন-নীতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের আর ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশ ও জাতির জন্য আজ অত্যন্ত দুঃসময়। বিরোধী দলগুলোকে কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক স্পেস দেয়া হচ্ছে না। আমরা সভা-সমাবেশ করতে পারি না। এমনকি দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে সভা-সমাবেশ করতে সমবেত হতে পারি না। একইসঙ্গে মানুষের কোনো ধরনের অধিকার নেই। কথা বলা, লেখা ও ভোট দেয়াসহ মানুষের সব অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এসব অধিকার ফিরে পেতে ও হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। তাই নিজেদের ছোট-খাট দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে দেশ ও জাতীয় স্বার্থে দেশপ্রেমিক সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বর্তমান সময়ে এটিই সবচেয়ে জরুরি।’

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফারুক রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান মুকুল, কেন্দ্রীয় নেত্রী ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা রহমান প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ইরান বলেন, ‘২০ দলীয় জোটকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশ লেবার পার্টি গঠিত হয়নি। দেশ ও মানুষ বাঁচাতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কয়েকটি ইস্যুতে আমরা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করে। এক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে লেবার পার্টির মিল রয়েছে। তাই আমরা জোটবদ্ধ হয়েছি। সেজন্য জোটে বিএনপির কাছে আমরা যথাযথ সহযোগিতা ও সহমর্মিতা আশা করি।’

এর আগে, সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ দিনব্যাপী কাউন্সিলের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

২০ দলকে সংগঠন গোছানোর আহ্বান জানিয়ে এ সময় ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারই এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত। এ জন্য ২০ দলকে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি এবং চিন্তা-চেতনা প্রখর ও তীক্ষ্ণ করার পাশাপাশি সংগঠনসমূহকে শক্তিশালী করতে হবে। সংগঠনগুলোর মধ্যে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

জানা গেছে, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং মহাসচিব হিসেবে হামদুল্লাহ আল মেহেদী পুনরায় দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। কাউন্সিলে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন মহানগর, জেলা ও উপজেলা থেকে আসা কাউন্সিলররাই তাদের নেতা চূড়ান্ত করবেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like