উনপঞ্চাশে সঙ্গীত মায়েস্ত্রো এ আর রহমান

বাংলামেইল : এ আর রহমান। ভারতীয় কিংবা উপমহাদেশের সঙ্গীত অঙ্গনের একটি নাম মাত্র নন, বরং সমকালীন বিশ্ব সঙ্গীতের মায়েস্ত্রো তিনি।সঙ্গীতের নানান শাখা প্রশাখায় তার বিস্তার। ভারতীয় এই সঙ্গীত পরিচালক আজ পা রাখলেন উন পঞ্চাশে!

এ আর রহমানের বাবা ছিলেন তামিল ও মালায়ালাম চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গীত পরিচালক ও নির্দেশক। ফলত সঙ্গীতের উপর মুগ্ধতা নিজের ঘর থেকেই ছড়িয়েছে। বাবার সাথে সেই ছোট্টটি থেকেই বাজিয়েছেন কিবোর্ড। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মাত্র নয় বছর বয়সে সেই বাবাকে চিরতরে হারিয়ে ফেলেন রহমান। এরপর ১১ বছর বয়স থেকে মালায়ালাম চলচ্চিত্র অর্কেস্ট্রায় বাদক হিসেবে তিনি কাজ শুরু করেন এবং অচিরেই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে৷

১৯৯২ সালে মণি রত্নমের তামিল ছবি ‘রোজা’-র আবহসংগীতের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র সংগীত জগতে তার সফল আত্মপ্রকাশ৷ এরপরের কথাতো রীতিমত ইতিহাস!

অসংখ্য চলচ্চিত্র, একাধিক মিউজিকাল ও একক সংগীত শিল্পী হিসেবে দু’দশকের সংগীত জীবনে রহমান পেয়েছেন আকাশচুম্বী সাফল্য৷ তবে এ আর রহমান জন্মগতভাবে ইসলাম ধর্মের কেউ ছিলেন না। ভারতের মাদ্রাজের এক তামিল সঙ্গীত পরিবারে জন্ম নেয়া বিশ্বসঙ্গীতের এই মায়েস্ত্রোর নাম ছিল ‘এ এস দিলিপ কুমার’। পরবর্তীতে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আল্লা রাখা রহমান নাম রাখেন। যাকে সংক্ষেপে এ আর রহমান বলা হয়।  তিনি একাধারে একাধিক বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শি, গীতিকার, সুরকার, নির্দেশক, সংগীত প্রজোযক, গায়ক ও সমাজসেবী৷

উল্লেখ্য, অসংখ্য চলচ্চিত্র, একাধিক মিউজিকাল ও একক সংগীত শিল্পী হিসেবে দু’দশকের সংগীত জীবনে রহমান পেয়েছেন আকাশচুম্বী সাফল্য চলচ্চিত্র ও মঞ্চে তার সৃষ্ট বিস্তৃত সঙ্গীত কর্মের জন্য তাকে ডাকা হয় ‘মাদ্রাজের মোৎসার্ট’ হিসেবে। ২০০৯ সালে সাড়া জাগানো ছবি ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এর আবহসংগীতের জন্য গোল্ডেন গ্লোব, দুটি অস্কার ও দুটি গ্র্যামি পুরস্কার জয় করেন রহমান। এ অবধি ভারতীয় তথা এশিয়ার আর কোনো সংগীত শিল্পী তা অর্জন করেতে পারেননি। ২০১০ সালে ‘পদ্ম ভূষণ’-এ সম্মানিত হওয়া ছাড়াও আরো অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সংগীতকার এ আর রহমান।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like