বিচ কার্নিভালের সফল সমাপ্তি

DSCF3546নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজারটাইমসডটকম, ০২ জানুয়ারি : পর্যটন বর্ষ-২০১৬ উদযাপনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আয়োজন করা হয় ৩ দিনের ‘মেগা বিচ কার্নিভালের সফল সমাপ্তি হয়েছে। জনপ্রিয় শিল্পের সুরের মুর্ছনায় আর উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ ‘মেগা বিচ কার্নিভালের’।
‘জলের গান’ এর শিল্পীদের সুরের মুর্ছনায় পর্যটকসমুদ্রে যখন উচ্ছ্বাসের ঢেউ উঠে তখন পশ্চিমাকাশে লাল আভা ছড়িয়ে সূর্যাস্তের সাথে সাথে ‘মেগা বিচ কার্নিভালের’ সাঙ্গ ঘটে রঙ্গ মেলার।
বৃহস্পতিবার সকালে বর্ণিল শোভাযাত্রা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে শনিবার বিকালে সূর্যাস্তের সাথে সাথে।
উৎসবের শেষ দিন শনিবার সকাল ৭ টায় এয়ার বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার।
এতে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া প্রতিযোগীতার কাবাডি, মোরগ লড়াই, সাফিং এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বান্দরবানের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিবেশনা।
এছাড়াও কার্নিভালের শেষ দিনে গান পরিবেশন করেন দেশ সেরা শিল্পী নিশীতা, ঝিলিক, আতিক হাসান, রাজীব, বারী সিদ্দিকী, মিলা ও জনপ্রিয় গানের দল ‘জলের গান’।
আর ‘জলের গানের’ শিল্পীদের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শনিবার সূর্যাস্তের সাথে সাথে শেষ হয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা ৩ দিনের ‘মেগা বিচ কার্নিভালের’।
‘মেগা বিচ কার্নিভালের’ আয়োজনকে ঘিরে গত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কক্সবাজারে সমাগম ঘটে দেশী-বিদেশী লাখো পর্যটকের। এই কয়েক দিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত কক্সবাজার যেন রূপ নিয়েছিল ‘উৎসবের নগরীতে’। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে শুরু করে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ আয়োজনের সাথে উচ্ছ্বাসিত ছিল সমাগত পর্যটকরা ।
শনিবার সূর্যাস্তের সাথে সাথে সাঙ্গ ঘটে ৩ দিনের বর্ণিল এ রঙ্গ মেলার।
শেষ দিনে কার্নিভাল উপভোগ করতে আসা পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার এলাকার সৌমিত্র সেন বলেন, ‘‘খুবই মজা উপভোগ করেছি। দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরে এ ধরণের আয়োজন পর্যটকদের কক্সবাজার বেড়াতে আসতে আকৃষ্ট করবে।’’
পর্যটন শিল্পের বিকাশে এ ধরণের আয়োজন আরও বেশী বেশী হওয়া প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
তার মতো একই রকম অভিব্যক্তি জানান, চট্টগ্রামের পাথরঘাটার কৌশিক ভৌমিক, কুমিল্লার চান্দিনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।
আয়োজন নিয়ে কার্নিভালস্থলে কথা হয় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘‘কক্সবাজারবাসী ও পর্যটকরা এ রকম আন্তরিকতাপূর্ণ সহযোগীতা করবে, তা আমাদের কাছে অকল্পনীয়। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’’
তিনি বলেন, ‘‘বাঙ্গালী উৎসব প্রিয় জাতি। উৎসব বাঙ্গালীর প্রাণ। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক ও শান্তির দেশ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উৎসবে অংশগ্রহণ বাঙ্গালী অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কক্সবাজারকে বিশ্বের কাছে নতুন রূপে পরিচিত করতে এধরণের আয়োজন প্রতিবছরই করা হবে।’’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, কার্নিভাল ও থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে গত কয়েক দিনে কক্সবাজার হয়ে উঠেছিল ‘উৎসবের নগরীতে’। কক্সবাজারের সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল কানায় কানায় ভরপুর হয়েছিল। সেই সাথে কক্সবাজারের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও আনাগোনা ঘটে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের।
কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা ‘মেগা বিচ কার্নিভাল’ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া শেষ করতে পারায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলেন, পর্যটক আকর্ষণের জন্য মেগা বিচ কার্নিভালের’ মতো নানান আয়োজন কক্সবাজারে করার পরিকল্পনা চলছে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like