৫ জানুয়ারি সমাবেশ করবে বিএনপি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাইজিংবিডিঃ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে পালন করতে ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দেশের সব জেলা সদরে এই সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হবে বলেও জানানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন। এ সময় সেখানে দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ছিলেন। সমাবেশের জন্য সার্বিক প্রস্তুতিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। দুই বছর পর রাজধানীতে এটিই হবে বিএনপির প্রথম সমাবেশ।

মির্জা ফখরুল বলেন,‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে ৫ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে  সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুমতি পেতে সরকার, পুলিশ প্রশাসন ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আশা করছি গণতন্ত্রকে তার নিয়মতান্ত্রিক পথে চলতে দিতে সরকার সহায়তা করবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জনগণ ও অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই প্রহসনের নির্বাচন করা হয়েছে। এই দিনে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে। দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন গণতন্ত্র সেদিন নিহত হয়েছে। ভোটে জনগণ তাদের রায় দিতে পারেনি। ৫ শতাংশ মানুষও ভোট দিতে যায়নি। ১৫৪ জন প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্য হয়নি এ নির্বাচন। সে জন্য এই দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি জানান, এরই মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশ করার অনুমতি এবং মাইক ব্যবহারের অনুমতির প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, সারা দেশের  জেলা সদরগুলোতে এই সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হবে।এ ছাড়া ১৯ জানুয়ারি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি।

জন্মদিন উপলক্ষে ওই দিন সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও সারা দেশের কার্যালয়গুলোতে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং গণমাধ্যমে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে একটি আলোচনা সভাও করা হবে।

যৌথ সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদ, আইনবিষয়ক সহসম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, সাংগঠনিক সহ-সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, প্রচার সহসম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স, দফতর সহসম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, শামীমুর রহমান শামীম, স্বেচ্ছাবিষয়ক সহ-সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনির হোসেন, জাসাসের  সাধারণ সম্পাদক মনির খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, ওলামা দলের সভাপতি আব্দুল মালেক, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাসিম, জেটেবের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ বি এম রুহুল আমীন আকন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like