ভোট সুষ্ঠু হলে বিএনপির সব প্রার্থী জয়ী হতো

ফাইল ছবি

বাংলামেইল : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর যে পৌর নির্বাচন হয়ে গেল তা যদি সুষ্ঠু হতো তাহলে তার দলের সব প্রার্থী নির্বাচিত হতো।

তবে পৌর নির্বাচনে বিএনপির কার্যত ভরাডুবি হয়েছে। ২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে দলটির প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ২২ জন জিতেছেন। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক জিতেছে ১৭৭টিতে। কারচুপির অভিযোগে ওই ফলাফল অবশ্য প্রত্যাখান করেছে বিএনপি। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানি খালেদার নেতৃত্ব দেখতে চায় না। সেই কারণেই জনগণ তাকে আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘উত্তর বঙ্গে অনেক জায়গাই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। মানুষ অনেকদিন পর ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু সব জায়গাতে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। তারা (আওয়ামী লীগ) সিল মেরে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। জনগণ সঠিকভাবে ভোট দিতে পারলে সবগুলোতে বিএনপি বিজয়ী হতো।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রদল আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

খালেদা জিয়া আরো বলেন, ‘আমরা বলে আসছি, শেখ হাসিনা ও কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সদ্য অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়ে তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে। এদের অধীনে ভবিষ্যতেও কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।’

ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মানুনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিয়ষক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভুইয়া, সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান আলিম, সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল প্রমুখ।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খালেদা জিয়া মিলনায়তনে প্রবেশ করলে মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় খালেদা জিয়াও হাত নেড়ে তাদের অভিনন্দনের জবাব দেন। এরপর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফুল দিয়ে সাংগঠনিক নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like