নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকে ফুলের মতো ফুটব

বাংলামেইল: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তাসনিম। পুরো নাম তাসনিম বিনতে রাশেদ। চোখে দেখতে না পেলেও মনের চোখে সে দেখে পুরো বিশ্বই। পড়ে বিসিএসআইআর হাইস্কুলে। মঞ্চে বসেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। অভিভাবক তাকে নিয়ে মঞ্চে উঠলেন। আর একটু পরই তিনি ‘ব্রেইল বই’ তুলে দিলেন তাসনিমের হাতে।

শুক্রবার (১ জানুয়ারি) সকালে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের হাতে আলোকোজ্জ্বল সঙ্গী ‘ব্রেইল বই’ তুলে দিয়ে বই উৎসবের শুভ সূচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এবারের পাঠপুস্তক উৎসব দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকে ফুলের মতো ফুটব, বর্ণমালার গরব নিয়ে আকাশজুড়ে উঠব’।

এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় সারাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের মহোৎসব। রাজধানীর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল চত্বরে তখন ছোটদের উৎসব।

হাজারো শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের উল্লাসে মুখরিত উৎসব প্রাঙ্গণ। নতুন ক্লাসে উঠেছে তারা। হাতে নতুন বইয়ের গন্ধে মাতোয়ারা সবাই। গন্ধ শুঁকে ফুল হয়ে ফুটেছে যেন। হাত তুলে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা সবার। আকাশ তারা ছোঁবেই।

এবার ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, এবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি বিদ্যালয়ের ৪ কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার ৭২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে আধুনিক শিক্ষায় নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যাতে তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসম্পন্ন দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। এরাই একদিন জগৎ জয় করবে।’

‘প্রতিকূলতা ও বাধার মধ্যেও বছরের প্রথম দিনই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে পেরে আমরা ভীষণ আনন্দিত। এতকিছুর মধ্যেও বই ছাপানো, বাঁধাই করা ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পৌঁছে দেয়া সত্যিই চ্যালেঞ্জের কাজ,’ বলে মন্ত্রী।

তিনি এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাঁধাইশ্রমিক, মেশিনম্যান, কাটিংম্যান, সুপারভাইজারসহ শিক্ষা পরিবারের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ উদ্যোগ  শুরু করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই ছাত্রছাত্রীরা বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে পাঠ্যবই হাতে পায়নি। তা পেতে পেতে মার্চ ও এপ্রিল পার হয়ে যেত। ফলে গরিব ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলত।

অনুষ্ঠানে বিসিএসআইআর হাইস্কুল, ধানমন্ডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কামরুননেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও হাফেজ আবদুর রাজ্জাক দাখিল মাদরাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়।

শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সময় বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র পাল, বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির  সভাপতি সেরনিয়াবাদ।

পরে রংবেরঙের বেলুন ওড়ান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ছেলেমেয়েদের করতালিতে ভরে যায় উৎসব অঙ্গন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like